আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা ঋণচুক্তির বাকি অর্থ ছাড় নিয়ে শঙ্কার মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে নিতে সংস্থাটির ‘ইতিবাচক’ মনোভাব রয়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক Nigel Clarke-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনও আলোচনা চলছে। আলোচনার মধ্যে যেগুলো এখনও রিজলভড হয়নি, সেগুলো সমাধান হবে।”

সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে—এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

তার ভাষায়, “আমি তো মনে করি এখনও আলোচনা চলছে। সামনে যেগুলো রিজলভ হয়নি, সেগুলো আলোচনায় আসবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এক দিনের সিদ্ধান্ত নয়।”

এক সাংবাদিক জানতে চান, বাকি কিস্তির অর্থ ছাড় হবে কি না। জবাবে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমরা সবার মধ্যে পজিটিভিটিই দেখছি।”

বর্তমানে আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভা চলছে। সেখানে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিচ্ছে।

এর মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের শর্ত পূরণ না হওয়ায় আইএমএফ পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে এবং নতুন কর্মসূচির পরামর্শ দিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর শর্তের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

তবে বসন্তকালীন সভার চতুর্থ দিনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ—উভয় সংস্থাই অর্থায়ন ও ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে নিতে ‘খুবই ইতিবাচক’ মনোভাব দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, “সবার অ্যাটিটিউড খুবই পজিটিভ। তবে প্যাকেজটা কী হবে, সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়।”

অর্থমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিএনপির নীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অবস্থান ‘এলাইন্ড’, ফলে তারা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

এর পাশাপাশি শুক্রবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা Paul Kapur-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

২০২২ সালে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ। পরে ২০২৫ সালের জুনে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়।

এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি রয়েছে ১৮৬ কোটি ডলার। ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের সময় নির্ধারিত ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।

আইএমএফ আগেই জানিয়েছিল, অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের আগে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি দেখতে চায় তারা

এদিকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন বাজেট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা হিসেবে অন্তত ৩০০ কোটি ডলার প্রয়োজন বলে মনে করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়েও চলমান বৈঠকগুলোতে আলোচনা হচ্ছে।