মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার মঙ্গলবার জানিয়েছেন, গরুর মাংস আমদানি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই; গরুর মাংস আমদানি করলে বাংলাদেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পাশাপাশি বাইরের দেশের মাংস খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার শঙ্কাও আছে।
"গরুর মাংস আমদানি করতে হলে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হবে। এটি সাবান-শ্যাম্পুর মতো কোনো পণ্য নয় যে চাইলেই আমদানি করা যাবে। দেশীয় পরিবেশে পালিত গবাদি পশুকেই মাংসের প্রধান উৎস হিসাবে অগ্রাধিকার দিতে চায় সরকার," বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত “আইওটি বেইজড ৪এফ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” -শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেমিনার এবং ‘৪এফ মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বলেন তিনি।
উপদেষ্টা জানান, অনেক দেশ বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে মাংস রপ্তানি করতে চাইলেও তাদের দেশে মাংসের দাম কম না। যারা স্বল্পমূল্যে বাংলাদেশে মাংস রপ্তানি করতে চায় তাদের থেকে মাংস নেয়ায় নানা ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।
"ওরা আসলে উদ্বৃত্ত মাংস রপ্তানি করতে চায়। আর না হলে ওদের ডমেস্টিক বাজারে মাংসের দাম বেশি আর আমাদের কম দামে মাংস কীভাবে দেবে? বিদেশ থেকে এসব মাংস এনে খাওয়ার মধ্যে বড় ধরণের ঝুঁকি আছে," বলেন ফরিদা।
উপদেষ্টা জানান, প্রাণিসম্পদ খাতে মৌলিক ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। ইতোমধ্যে এ খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার সুফল অদূর ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে।
এছাড়া বাংলাদেশের নিঃসরিত মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে উপদেষ্টা জানান, দেশীয় পর্যায়ে কিছু খাতে—বিশেষ করে কৃষি ও প্রাণিসম্পদে—মিথেন ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ঘটলেও এসব খাতে নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রমাণ করতে পারবে , স্বল্প নিঃসরণকারী দেশ হয়েও বাংলাদেশ দায়িত্বশীলভাবে মিথেন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ধনী দেশগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
৪এফ প্রকল্প প্রসঙ্গে ফরিদা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাস থেকে পশুখাদ্য, খাদ্য, জ্বালানি (বায়োগ্যাস) ও জৈবসার উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ক্ষুদ্র কৃষক পর্যায়েই বাস্তবায়নযোগ্য। এতে একদিকে মিথেন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে।
পূর্বের পোস্ট :