ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোনো অভিযানে নিহত হলে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসির (আইআরজিসি) কট্টরপন্থি নেতাদের কেউ তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন—ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার আগেই এমন ধারণা দিয়েছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
এ সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্স–কে এ কথা জানিয়েছে।
হামলার দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুত হতে থাকা সিআইএর এসব মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর ইরানে কী কী ঘটতে পারে এবং কী মাত্রার সামরিক অভিযান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিতে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে—তারই সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলানোই যে মূল লক্ষ্য, তা শনিবারের অভিযানের শুরুতেই ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে।
সিআইএর মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত তৃতীয় আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান-পরবর্তী একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপটের মধ্যে আইআরজিসির নেতাদের কেউ ক্ষমতার শীর্ষে বসবেন—এ সম্ভাবনাও বিবেচনায় ছিল।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বা বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর দায়িত্ব হলো দেশটিতে শিয়া মুসলিম মোল্লাতন্ত্রের সুরক্ষা দেওয়া।
তবে সিআইএর প্রতিবেদনে ‘সুনির্দিষ্টভাবে এটাই ঘটবে’—এমন কোনো দৃশ্যপটের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা তথ্য সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আইআরজিসির সম্ভাব্য কারা শীর্ষপদে থাকতে পারেন, রয়টার্সের প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। সিআইএর মূল্যায়নে কারও নাম ছিল কি না, তাও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে আগ্রহী—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে সে ইঙ্গিত দিলেও খামেনির পর দেশটির নেতৃত্বে কে বা কারা আসতে পারেন, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
শনিবার সকালের এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প তেহরানকে ‘সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়ে ইরানি জনগণকে সরকারের দখল নিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক অভিযান গণঅভ্যুত্থানের মঞ্চ তৈরি করে দিতে পারে।
ডিসেম্বরে ইরানজুড়ে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হামলা চালানো হবে কি না—তা নিয়ে মার্কিন সরকার কয়েক সপ্তাহ দোলাচলে থাকার পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা হয়।
এ সময়ের মধ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টাও করেছিলেন। তবে তেহরান দাবি করছে, হামলার প্রস্তুতি আড়াল করতে গত বছরের মতোই ‘আলোচনার নাটক’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সম্ভাবনা ‘প্রকট’ বলে ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত কংগ্রেসের শীর্ষ আইনপ্রণেতাদের আভাস দেন। তিনি বলেন, মার্কিন অভিযানই সম্ভবত হবে; তবে পরমাণু আলোচনা সফল হলে ট্রাম্প মত বদলাতেও পারেন।
বৃহস্পতিবার জেনিভায় দুই পক্ষের সর্বশেষ আলোচনায় কোনো চুক্তি না হওয়ায় শুক্রবার রাতে রুবিও ‘গ্যাং অব এইট’-কে জানান, ইরানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলা হতে পারে, যদিও ‘ট্রাম্প এখনও মত বদলাতে পারেন’—এমন তথ্যও দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :