ভোক্তা পর্যায়ে আরেক দফা বাড়িয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম জানুয়ারি মাসের জন্য ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, খুচরা পর্যায়ে দাম মানার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারবে না কমিশন।
রোববার দুপুরে কারওয়ানবাজার বিইআরসি কমিশন অফিসে জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজির দাম ঘোষণা করে যা একইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী,জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২ ডিসেম্বর সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি; জানুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিসেম্বরে ভোক্তা পর্যায়ে ১ টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ডিসেম্বরে এলপিজির দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে এর থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে। দোকানে দেখা দিয়েছে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সংকট। ১২৫৩ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-২৮০০ টাকায়।
বাজারে বিইআরসির নির্ধারিত দাম মেনে চলার ব্যাপারে কমিশনের দায়ভার প্রসঙ্গে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, এলপিজির নির্ধারিত নতুন দাম খুচরা পর্যায়ে মানার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারবে না কমিশন।
চেয়ারম্যান বলেন, "ঘোষিত দাম যে খুচরা পর্যায়ে মানা হবে, নিঃসন্দেহে সে নিশ্চয়তা দিতে পারবো না। তবে অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন দাম মানার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযান চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোক্তার ডিজির সঙ্গে আমি নিজে কথা বলেছি অভিযান বাড়াতে। উৎপাদক পর্যায়ে বাড়তি দাম নেয়ার অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উৎপাদকরা এলপিজি নির্ধারিত দামেই বিক্রি করছে বলেও জানিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, "অভিযোগ যেন না ওঠে, সেটা আবার বলবো। সাপ্লাই সাইডে সমস্যা আছে। ঘাটতি আছে; সেটা সত্য।"
এদিকে এলপিজি অপারেটরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে এলসি খুলতে না পারায় এবং জাহাজ সংকটের কারণে বাজারে গ্যাসের ঘাটতি দেখা গেছে। এই সুযোগে খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।
পূর্বের পোস্ট :