হঠাৎ করে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে খাতসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করবেন জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় তার বাসায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

রোববার বিকাল ৪টায় সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে এলপিজি আমদানিকারক, বোতলজাতকারী কোম্পানির প্রতিনিধি, সরবরাহকারী, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

এদিকে ব্যাপক দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেই পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী রোববার জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণের কথা রয়েছে। বিকাল ৩টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে দাম ঘোষণা করা হবে, যা সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়।

শনিবার উপদেষ্টার বাসায় হওয়া অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এলপিজির মজুত পরিস্থিতি, হঠাৎ করে দাম লাফিয়ে বাড়ার কারণ এবং করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববারের বৈঠকে খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনার পর সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে আনার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি কয়েক দিনের ব্যবধানে বাসাবাড়িতে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে কোথাও কোথাও প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। অনেক এলাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ, যার দায় খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের ওপর চাপাচ্ছেন, আর ডিলাররা দোষ দিচ্ছেন সরবরাহকারীদের।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝার চেষ্টা করছি। আজ আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব, জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।”

তিনি জানান, শনিবারের বৈঠকটি আনুষ্ঠানিক নয়। এলসি খোলা থাকলেও পণ্য না আসা, শিপিং ও সাপ্লাই চেইনসহ বড় কিছু বিষয় বোঝার জন্যই এ আলোচনা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিইআরসি এলপিজি খাতের সংগঠন লোয়াবকে চিঠি দিয়ে মজুত, বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির সব স্তরে নির্ধারিত দাম মানতে নির্দেশ দিয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রেইট বা পরিবহন ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দাম নির্ধারণের পাশাপাশি সেই দাম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকলেও বিইআরসি তা কার্যকরভাবে পালন করতে পারেনি। আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত দামে বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করছে।