ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমন ও বহির্গমন মিলিয়ে ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল হয় বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার ৬টি, রোববার ১৪টি এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত আরও ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়েছে। রোববার রাতে সালাম এয়ারের ওভি-৪০৩ এবং সোমবার সকালে ওভি-৪০১ ফ্লাইট মাস্কাট থেকে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। একই সংস্থার ওভি-৪০২ ফ্লাইটটি সোমবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে মাস্কাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এছাড়া শনিবার সারাদিন বন্ধ থাকার পর রোববার বিকেলে বিমান বাংলাদেশের জেদ্দাগামী ‘বিজি ১৩৫’ ফ্লাইটটি বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম ত্যাগ করে।

আঞ্চলিক সংঘাতে আকাশপথ কার্যত বন্ধ

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে শনিবার সকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় একাধিক দেশের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরান ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহারাইন, ইরাক, কুয়েত ও কাতারও সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আবুধাবি ও দোহা বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে।

যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট সংক্রান্ত বিভ্রান্তি এড়াতে এয়ারলাইন্সগুলোকে সময়মতো সময়সূচি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যারা বিমানবন্দরে এসেছিলেন, তাদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।