মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রোববার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে যে দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে তাতে করে প্রতি ডিমে খামারিদের কমপক্ষে দুই টাকা করে লোকসান হচ্ছে।

“সবার আগে প্রান্তিক খামারিদের কথা ভাবতে হবে। যদি ছোট খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে পুরো খাতে ধস নামবে,” বাংলাদেশের পোল্ট্রিখাতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে দুপুরে রাজধানীর এক হোটেলে মতবিনিময় সভায় বলেন টুকু।

টুকু জানান, বড় ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব ছোট পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেয়া। একদিকে তারা ডিম বিক্রি করছে লোকসানে, অন্যদিকে মুরগির বাচ্চা কেনায় তাদের ক্রেডিট সুবিধা কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

বড় ব্যবসায়ীরা যেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ক্রেডিট সুবিধা চালু করেন সেই আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি পোল্ট্রিখাতে ভ্যাকসিন ব্যবহারে সততার পরিচয় দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি। “যেসব বড় বড় প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আমদানি করে তাদের সততার পরিচয় দিতে হবে। কোনোভাবেই প্রান্তিক খামারিদের ভেজাল ভ্যাকসিন দেয়া যাবে না।”

পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা ঋণ জটিলতা ও করবৃদ্ধির অভিযোগ জানালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড চালু করেছেন। পোল্ট্রি খামারিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। এতে করে তাদের ঋণ জটিলতা ও কর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন ব্যবসায়ীদের পোল্ট্রিখাতে কর কমানোর আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পোল্ট্রি নীতিমালা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের আগামী দিনের যেকোনো অসুবিধা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

দেশে ভ্যাকসিন তৈরি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, “বাংলাদেশে মাত্র ১২ শতাংশ ভ্যাকসিন তৈরি হয়। আমাদের অবকাঠামো সামান্য উন্নতি করলে এই উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। বর্তমান সরকার সেলক্ষ্যেই কাজ করছে।”

প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান জানান, ধীরে ধীরে প্রান্তিক খামারিদের মধ্যস্বত্বভোগীদের ঋণের জটিলতা থেকে বের করে আনা হবে। “দেশের পোল্ট্রি খামারিদের ৯০ শতাংশই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তারা ফিড ও বাচ্চা থেকে শুরু করে নানাভাবে দাদন ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা হবে।”

অনুষ্ঠানে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা জানান, সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পোল্ট্রিপণ্য রপ্তানি করতে পাড়বে বাংলাদেশ।