আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আজ দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন র‍্যাবের (এসআইএফ) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বিপিএম, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিপিএম এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস ও ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া, এনডিসি, পিএসসি। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, এনডিসি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মজিদ আলী বিপিএমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট–পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই এই নির্বাচনের মূল শক্তি হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কিংবা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা—কেউই দায় এড়াতে পারবেন না। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করতে পারে—এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভোটের আগের চার দিন নিবিড় টহল পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে টহল জোরদার করার কথাও বলেন উপদেষ্টা।

সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’, বডি–ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ও ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সর্বোচ্চ।

তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে একজন অস্ত্রধারী আনসারসহ অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল দল। সঠিক নিয়ত, ধৈর্য ও মনোবল অটুট রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের ইতিহাসে একটি সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনাররা অংশ নেন।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রংপুর বিভাগে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে এবং এ বিভাগের প্রস্তুতি সন্তোষজনক। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের মানুষ তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ। তাই এখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। শতভাগ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।