ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘পাশা’ (পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট) নামে একটি দেশি সংস্থাকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর নির্বাচন কমিশন সংস্থাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। যাচাই-বাছাই করে সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপাতত তাদের পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘পাশা’কে ‘নামসর্বস্ব’ ও ‘এক ব্যক্তি নির্ভর’ সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তিই সংস্থাটির সব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। লোকবল বলতে কেবল তিনিই, নিজের বাড়ির একটি কক্ষকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানান, এখন পর্যন্ত সংস্থাটির কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও বাহিনী মোতায়েন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা চলমান নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সারা দেশে অত্যন্ত উদ্দীপনা, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনি প্রচারণা চলছে। এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশের জন্য ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার কার্যক্রমের একটি সরাসরি প্রদর্শনীও বৈঠকে দেখানো হয়।

এ ছাড়া ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা জানানো হয়। অ্যাপটি নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো ভোটকেন্দ্র বা আশপাশে সহিংসতা বা গোলযোগ হলে অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পৌঁছাবে।

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সদস্য এরইমধ্যে মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য ১ হাজার ২১০টি প্লাটুনে মোতায়েন করা হয়েছে। কোস্টগার্ড ১০ জেলার ১৭টি আসনের ২০টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্য ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে মোতায়েন হবে। আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন সদস্যের মোতায়েন শনিবার থেকে শুরু হয়ে রোববারের মধ্যে সম্পন্ন হবে। র‍্যাবের মোতায়েনও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু হবে।