ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর দেশে বাস ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন এই ভাড়া বাস্তবে মানা হবে কিনা এবং সরকার কতটা কার্যকর তদারকি করতে পারবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। দূরপাল্লায় তা ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা হয়েছে।
কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর আগেই বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
ঢাকার খিলক্ষেত-বনানী রুটে চলাচলকারী চাকরিজীবী গোলাম রসুল বলেন, “১৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। কেন হেল্পারের সঙ্গে তর্ক করব, সেটাই বুঝি না।”
ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ডিজেলের দাম বাড়লেও ভাড়া বাড়ানো কতটা যুক্তিসঙ্গত।
যাত্রী মো. নূরে আলম বলেন, “২০২২ সালে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু পরে দাম কমলেও ভাড়া কমেনি। এখন মাত্র এক টাকা বাড়লে ভাড়া কেন বাড়বে?”
অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তেলের দাম কমলেও বাসভাড়া বাস্তবে কমানো হয়নি। ২০১৬, ২০২২ ও ২০২৪ সালে ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৈঠকে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে মতভেদ
ভাড়া নির্ধারণের বৈঠকে মালিকপক্ষ কিলোমিটারে ২৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত ১১ পয়সা বৃদ্ধিতে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজেলের দাম ছাড়াও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত করেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।
তদারকির অভাবে বাড়তি ভাড়ার শঙ্কা
নতুন ভাড়া নির্ধারণের পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে, চালক ও সহকারীরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করতে পারেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, “ভাড়া ১১ পয়সা বাড়লেও বাস্তবে এর চেয়ে বেশি আদায় হতে পারে। মনিটরিং না থাকাটা বড় সমস্যা।”
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “সরকার ভাড়া বাড়াতে সক্রিয় থাকলেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের সময় কার্যকর নজরদারি থাকে না।”
তার অভিযোগ, ভাড়ার তালিকা তৈরির সময়ও অনিয়ম হয়—কোথাও অতিরিক্ত দূরত্ব, স্টপেজ বা টোল যোগ করে ভাড়া বাড়ানো হয়।
‘প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাড়া নির্ধারণের চেয়ে তা বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ।
সাইদুর রহমানের ভাষ্য, “আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নেই। বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ—সবগুলো কাঠামো সংস্কার না করলে এই সমস্যা সমাধান হবে না।”
মালিকপক্ষের দাবি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, “ভাড়া বাড়ানো হয়নি, তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর বেশি কেউ নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদারকির আশ্বাস
বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর জানিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে আদায় হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “ভাড়ার চার্ট প্রকাশের পর আর কোনো অস্পষ্টতা থাকবে না। অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পূর্বের পোস্ট :