হাজারো মানুষের প্রাণহানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দেওয়া যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এ ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতা ও প্রতিনিধিরা ‘একটি সমন্বিত প্রস্তাব’ নিয়ে না আসা পর্যন্ত দেশটিতে হামলা স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনি সম্মত হয়েছেন।
দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
এর আগে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিলেও এ সিদ্ধান্তকে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এ ধরনের হামলার সমালোচনা রয়েছে।
আন্তোনিও গুতেরেসসহ অনেকেই বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে ইরান, ইসরায়েল বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার বর্তমানে ‘নাজুক পরিস্থিতিতে’ রয়েছে বলেই তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ইরানের বন্দর ও উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে, যাকে ইরান ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে দেখছে।
এদিকে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও, আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে এ নৌ-অবরোধ।
এর আগে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি ‘ভালো চুক্তি’ সম্ভব।
পূর্বের পোস্ট :