নারায়ণগঞ্জে একটি খেয়াঘাটের ইজারা নেওয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার বক্তাবলী ঘাটের ইজারার দরপত্র জমাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দিনভর সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়ার দিন ছিল সোমবার। ঘাটটির ইজারা পেতে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরাও আগ্রহী ছিলেন। এ কারণে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন পক্ষের সমর্থকেরা জড়ো হতে থাকেন।

দুপুরের দিকে জামায়াত ও এনসিপির কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বাধা দেয় বিএনপির কর্মীরা—এমন অভিযোগ ওঠে। এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতা তাওহীদ প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে জামায়াতের স্থানীয় আমির আবু বকরও হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

এরপর এনসিপির আরও কর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হলে দুপুর আড়াইটার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা পরে তিন পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এনসিপি নেতা তাওহীদ অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দিচ্ছিলেন। প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় আমির আবু বকর বলেন, এনসিপি নেতাকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনিও মারধরের শিকার হন। তাঁর দাবি, মারামারির কারণে তাঁদের পক্ষের কেউ দরপত্র জমা দিতে পারেননি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির নেতারা। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, তাঁরা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।