চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রোববার চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, জানিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে এই ইজারা চক্তি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আশিক বলেন, "ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তির জন্য সময় চেয়েছে। যেহেতু এই সরকারের হাতে আর দুই দিনের বেশি কর্মদিবস নেই, সেক্ষেত্রে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে আর বন্দর ইজারা চুক্তি হবে না।"
রোববার সকালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার অফিসে একটি চিঠি এসেছে উল্লেখ করে আশিক জানান, "আজকে সকালেই আমরা চিঠিটি পেয়েছি। ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে ইজারা চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই আলোচনা সঠিক পথে আগাবে বলেও আশাবাদী তারা। আমরা চুক্তির যে খসড়া তাদের কাছে পাঠিয়েছে সেটি তারা পর্যালোচনা করতে সময় চেয়েছেন। এই সরকারের আমল শেষে নির্বাচনের পর এ নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আবারও আলোচনা হবে।"
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকবে উল্লেখ করে আশিক জানান, "২০১৯ সাল থেকে এই বন্দর চুক্তিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মূল আলোচনা হয়েছে গত এক মাস ধরে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি আগামীতেও এই আলোচনা চলমান থাকবে।"
এদিকে বন্দর ইজারা দেয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে সকাল থেকে চলছে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা এই ধর্মঘটের কর্মসূচির কারণে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বন্দরের মূল জেটিতে ১২টি জাহাজ রয়েছে। বহির্নোঙরে রয়েছে পণ্যবাহী অর্ধশতাধিক জাহাজ। এসব জাহাজে পণ্য খালাস হচ্ছে না। ধর্মঘট ঘিরে সকাল থেকে বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে।
নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন হয়। এরপর গত মঙ্গলবার শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এক বৈঠকের পর লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এরপরই আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বন্দর। এতে বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
সকালে সাংবাদিকরা চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন উপদেষ্টা বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যাপারে অত্যন্ত পরিষ্কার। এ বিষয়টি এখনো চলমান, তারা একটি চিঠি প্রধান উপদেষ্টাকে দিয়েছেন। তারা আরও সময় চায়। আমরা যে জায়গায় আছি, সেখানে আসতে তাদের আরও সময় প্রয়োজন। আলোচনা চলবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরেও আলোচনা চলবে।
বন্দর ধর্মঘটকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে উপদেষ্টা জানান, কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। ১৮ কোটি মানুষকে তারা জিম্মি করেছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে।
ইজারা চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি মোট চার দফা দাবিতে চলছে বন্দর ধর্মঘট। আন্দোলনকারীরা বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার দাবিতে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
পূর্বের পোস্ট :