রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচার শুরু হলো।

সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, শুনানির জন্য সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁদের এজলাসে তোলা হয়।

গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই দিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান। তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছিল।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পল্লবীর একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন সোহেল ও স্বপ্না। ১৯ মে সকালে রামিসাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের কক্ষে রামিসার মরদেহ দেখতে পান।

তদন্তে পুলিশ অভিযোগ করে, সোহেল রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্নাও এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আজিজুর রহমান দুলু। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহকে।