বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিসভা থেকে তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা বলেছেন।
ঈদের ছুটি শেষে সোমবার অফিস খোলার দিনই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং একই দিনে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লেখা সেই পদত্যাগপত্রে বলা হয়, “দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
“বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।”
এক সময় সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে সরকারি চাকরি করা অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ২০০৫ সালে চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘উপজাতিবিষয়ক’ উপদেষ্টা। রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
২০১০ সালে দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এখনো তিনি সেই দায়িত্বে আছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মত ভোটের লড়াইয়ে নামেন দীপেন দেওয়ান। ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৬ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি প্রথমবারেই এমপি নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে বড় জয় পাওয়া বিএনপি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাড়ে তিন মাসের মাথায় তিনি সেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন।
পূর্বের পোস্ট :