পদ্মা সেতুর ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থায় টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এ সেবায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাশলেস টোল আদায় ব্যবস্থার প্রতি ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়ার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইটিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। একই সময়ে পদ্মা সেতুতে নিয়মিত চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ ইটিসিতে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮টিতে। সেবা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করে পদ্মা সেতু পার হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক সেবা দিতে ইলেকট্রনিক টোল আদায় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ১০ কোটি টাকার বেশি টোল সংগ্রহ এবং এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের পরিবহন খাতে প্রযুক্তিনির্ভর ও ক্যাশলেস ব্যবস্থার অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বর্তমানে ‘ট্যাপ’, বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে।
ইটিসি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপে ‘ডি-টোল’ অপশনে গিয়ে গাড়ির নম্বর ও চেসিস নম্বরের শেষ চার অঙ্ক দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় অর্থ রিচার্জ করে প্রথমবার মাওয়া টোল প্লাজার নিবন্ধন বুথ বা টোল বুথে বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি ট্যাগ যাচাই করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। একবার নিবন্ধনের পর আলাদা কোনো আরএফআইডি ট্যাগের প্রয়োজন হয় না।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন বাস অপারেটর, পণ্যবাহী যান ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকেরা ইতোমধ্যে নিয়মিত ইটিসি ব্যবহার করছেন। ইটিসি লেনে চলাচলকারী যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হয় না। ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতির মধ্যে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করে যানবাহন সেতু পার হতে পারে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজট কমছে, জ্বালানি অপচয় ও কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুর শতভাগ টোল আদায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রধান সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও পর্যায়ক্রমে ক্যাশলেস ইটিসি ব্যবস্থা চালু করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সব পরিবহন মালিক ও চালককে দ্রুত নিজ নিজ যানবাহন ইটিসিতে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
পূর্বের পোস্ট :