বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “নির্বাচন স্থগিত করার মতো কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বেগম খালেদা জিয়ার মনোনীত আসনগুলোতে দল বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে যদি সেসব মনোনয়ন বৈধ হয়, তাহলে তাঁরাই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।”
আইনগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই বা প্রতীক বরাদ্দের পর যদি বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যু হতো, তাহলে জটিলতা তৈরি হতে পারত এবং নির্বাচন পেছানোর প্রশ্ন উঠতে পারত। “কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তা নয়। তিনি মনোনয়ন যাচাইয়ের আগেই ইন্তেকাল করেছেন। আইনগতভাবে তিনি আর বিদ্যমান কোনো সত্তা নন, ফলে তাঁর মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের পর্যায়ে বৈধ থাকবে না,” তিনি বলেন ।
এ ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হলে, তাঁরাই বেগম খালেদা জিয়ার পরিবর্তে বিএনপির প্রার্থী হবেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মায়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁকে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে হবে। ব্যক্তিগত শোক যত গভীরই হোক, দেশের স্বার্থে তাঁকে শক্ত থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের সংগ্রামে নিজের পুরো জীবন, সন্তান ও পরিবার উৎসর্গ করেছেন। “দেশ, দেশের মানুষ ও মাটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়। তাঁর দেশপ্রেমের কোনো তুলনা নেই,” বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অনেক কিছু হারালেও এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, যেখানে পৃথিবীর খুব কম মানুষই পৌঁছাতে পারেন। “আমরা তাঁর ত্যাগ, অবদান ও দেশপ্রেমকে শক্তি হিসেবে নিয়ে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে যাব। এটি জাতির দাবি,” বলেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি বা বাংলাদেশের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকামী মানুষের একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা। “তিনি দলীয় গণ্ডি ও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মানিত অবস্থানে পৌঁছেছিলেন, যা আমাদের জাতীয় জীবনের এক বড় অর্জন,” বলেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা ও বেদনা তৈরি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হবে না। “আমরা তাঁকে হারিয়েছি, এই শোক চিরদিনই থেকে যাবে,” যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। বুধবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নেন। পরে তাঁকে তাঁর প্রয়াত স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
আসন্ন দ্বাদশ নয়, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি তাঁকে দিনাজপুর-৩, ফেনী-১ ও বগুড়া-৭—এই তিনটি আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে তাঁর গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে দল একই সঙ্গে বিকল্প প্রার্থীও মনোনীত করেছিল।
পূর্বের পোস্ট :