সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বল্প নোটিশে এটি একটি সংক্ষিপ্ত সফর, যার উদ্দেশ্য বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন।
ভারতের বিশ্বাস, বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ককে পথ দেখাবে। সে কারণেই তার শেষযাত্রায় অংশ নিতে জয়শঙ্করকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।
এর আগে, ২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ভারত সফর করেছিলেন খালেদা জিয়া। এছাড়া, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সর্বশেষ সরকারি ভারত সফর ছিল ২০০৬ সালের মার্চ মাসে।
সে সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের আমন্ত্রণে ২০ থেকে ২২ মার্চ তিনি রাষ্ট্রীয় সফর করেন। ওই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “২০১৫ সালে ঢাকায় তার সঙ্গে আমার উষ্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করছি। আমরা আশা করি, তার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।”
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই শোক সহ্য করার শক্তি কামনা করেন।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার স্বামী ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
পূর্বের পোস্ট :