কোনো রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচন করতে গেলে যেখানে আলাদা করে সমর্থন যোগার করতে হয় না, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করতে গেলে তার নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন ও স্বাক্ষরের দরকার হয়; যা কঠিন নিয়ম এবং এই প্রক্রিয়া সহজ করা উচিত বলে সোমবার জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।

শনিবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে তাসনিম জারা জানান ঢাকা-৯ আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন। সোমবার মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষদিন হওয়ায় দুই দিনের মধ্যে নির্বাচন  কমিশনের বিধান অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জারাকে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন ও এর প্রমাণ হিসাবে তাদের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে।সমর্থন জোগাতে না পারলে নিয়মানুযায়ী, জারার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।

রোববার সকাল থেকে খিলগাঁও ও বাসাবো এলাকায় বুথ বসিয়ে এই এলাকার ভোটারদের সমর্থন চেয়ে স্বাক্ষর আদায় কার্যক্রম শুরু করেন জারা। ঢাকা-৯ আসনে প্রায় ৫ লাখ ভোটার এবং এজন্য এক শতাংশের হিসাবে জারার দরকার ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর।

জারা জানিয়েছেন, রোববার সারাদিনে প্রায় ৩৫০০ ভোটারের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। সোমবার সকাল থেকে বনশ্রী ই ব্লকে বাড়তি বুথ বসিয়েছেন তিনি। কিন্তু দুই দিনের কম সময়ে এই স্বাক্ষর জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব কাজ বলে জানান তিনি।

"কেউ এসে শুধু স্বাক্ষর করলে হবে না, এজন্য তার ভোটার নাম্বার লাগবে। অনেকেই নিজেদের ভোটার নাম্বার জানেন না। এতে করে পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আমরা আশাবাদী খুব দ্রুত পাঁচ স্বাক্ষর সংগ্রহ সম্ভব হবে," বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন সোমবার বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত। শেষ সময়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে জারাকে। তাই আগামীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটি থেকে পদত্যাগ করেন জারা। তিনি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে ছিলেন।