ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ভারত।
ইন্ডিয়া টুডে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ‘ডার্ক প্রিন্স’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে জামায়াতের অধীনে যে প্রতিক্রিয়াশীল ইসলামি গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, তাদের বিপরীতে তারেকের প্রত্যাবর্তন ভবিষ্যতে ভারতের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের দোসর হিসেবে কাজ করে—এমন অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে তারেকই পারবেন দেশকে উদারপন্থার দিকে নিয়ে যেতে এবং দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহমর্মিতা দেখানোর প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরের এক তারিখ মোদি খালেদার অসুস্থতায় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। বিএনপিও মোদির এই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে। বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মূলত আগের তুলনায় বর্তমানে ভালো দিকে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন—উল্লেখ করে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, হাসিনা চীনের সঙ্গে শক্ত অবস্থানে ছিলেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস করেছেন ঠিক উল্টো। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে রেখেছেন দহরম–মহরম সম্পর্ক আর ভারতের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন—যা ভারতের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয়।
যদিও তারেক বলেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’, কিন্তু তার এই বার্তার মধ্যে ভারতবিদ্বেষী কিছু নেই বলে উল্লেখ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। তারেকের এই রাজনৈতিক স্লোগানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানের সঙ্গে তুলনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এ ছাড়া ইউনূস সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ, বিশেষ করে বৈদেশিক সম্পর্ক–সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো নিয়ে তারেকের সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ভারত। আগামী নির্বাচনে তারেকের দল জয়ী হবে—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিএনপির বিজয় তুলনামূলকভাবে ভারতের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান সৃষ্টি করবে।
২০১৮ সালে সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তারেক রহমান। ২০১২ সালে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন তিনি এবং এক বছরের মধ্যে তার আবেদন অনুমোদন পায়।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেন তারেক। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সমর্থকেরা বলছেন ‘রাজসিক মহাপ্রত্যাবর্তন’। দেশে তারেক রহমানকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সংবর্ধনা জানিয়েছেন। তারেকও তার দেওয়া ভাষণে একসঙ্গে দেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদবিরোধী কিংবদন্তি নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক ভাষণের আদলে তিনি বলেছেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’।
পূর্বের পোস্ট :