এক মাসের বেশি সময় ধরে সোনালি মুরগির দাম আকাশচুম্বী হলেও শুক্রবার বাজারে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি কমেছে প্রায় ১০০ টাকা যদিও ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা করে।
ঢাকার কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, রামপুরা ও বাড্ডার বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকা কেজিতে যা চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৪৩০-৪৬০ টাকা।
যদিও মার্চের শুরুতে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৮০-৩২০ টাকা কেজিতে কিন্তু এখনো ফিরে আসেনি পূর্বের দামে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন জটিলতায় বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে তাদের।
কারওয়ান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী এবাদুল বলেন, “প্রতি ট্রাকে ভাড়া বেড়েছে ৩৫০০ টাকার ওপরে। এতে করে খামারিরা এখন কম দামে মুরগি বিক্রি করলেও ২৮০ টাকা কেজিতে ভোক্তাদের কাছে মুরগি বিক্রি সম্ভব না।”
ঢাকার বাজারে মুরগি সরবরাহ করেন নরসিংদীর খামারি আমিনুল। তিনি বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে সোনালি মুরগির খামারে বার্ড ফ্লুর প্রকোপ বেড়েছে ব্যাপক। অনেক খামারির ৭০-৮০ শতাংশ মুরগি মারা গেছে। মুরগি মৃত্যুর হার কিছুটা কমায় এখন কম দামে মুরগি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।”
মুরগি ব্যবসায়ীরাও বলছেন একই কথা। উত্তর বাড্ডা বাজারের খুচরা মুরগী ব্যবসায়ী আইয়ুব বলেন, “দোকানেই অনেক মুরগি মারা গেছে। এতে করে লোকসানে মুরগি বিক্রি করতে হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে খামারিরা আগের দামে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু পরিবহন ব্যয়ের কারণে মুরগির দাম আগের দামে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।”
সোনালি মুরগির পাশাপাশি দাম কমে ব্রয়লার মুরগিরও। ২০০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া ব্রয়লারের দাম এখন ১৮০-১৯০ টাকা। এছাড়া দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭২০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৫০-৭৮০ টাকা।
এদিকে ঈদুল ফিতরের সময়ে বাড়া গরুর মাংসের দাম এখনো কমেনি। ৭৫০-৮০০ টাকা কেজিপ্রতি গরুর মাংস দুই মাস ধরে বিক্রি হচ্ছে ৮২০-৮৫০ টাকা কেজিতে। বেশিরভাগ দোকানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।
বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। ডজন প্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা। ১২০ টাকা ডজনের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়।
এছাড়া বেড়েছে চিনির দাম। কেজিপ্রতি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১০৫ টাকা। দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। ৩৫ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা।
বাজারে প্রায় আগের দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। তবে দাম কমেছে ইলিশের। বিক্রেতারা বলেছেন, পহেলা বৈশাখের পর ইলিশের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তবে ক্রেতাদের দাবি, পহেলা বৈশাখে ইলিশের দাম ছিল অস্বাভাবিক। বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাও অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।
রামপুরা বাজার করতে আসা এক ক্রেতা সাইদুল বলেন, “মাঝারি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২০০০ টাকা কেজিতে, যা এক মাস আগেও ছিল ১৫০০ টাকা। এছাড়া যেসব ইলিশের আকার এক কেজির বেশি তার দাম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-২৬০০ টাকায়, যা আগে বিক্রি হতো ২২০০ টাকায়।”
বাজারে এখনো স্বাভাবিক হয়নি বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ। ক্রেতাদের অভিযোগ, বেশিরভাগ দোকানে নেই পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল৷ বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে খোলা তেল। তারা বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং এর ওপরে জোর দেন
পূর্বের পোস্ট :