দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে অফিসের জায়গা বাড়াতে নতুন ২১ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকায় বিদ্যমান ১ নম্বর ভবন ভেঙে এ সুউচ্চ ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ভবনের মাধ্যমে ২ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুট জায়গা সংকুলান করা হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধু ভবন নির্মাণেই ব্যয় হবে ৩৬১ কোটি টাকা। প্রতি বর্গমিটার নির্মাণে খরচ পড়বে ৫২ হাজার ৭০৪ টাকা, যা স্থাপত্যবিশেষজ্ঞদের মতে অতি উচ্চ এবং অপচয়মূলক।

প্রকল্প প্রস্তাব ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের ৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য এটি উত্থাপন করা হবে। সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প তালিকাভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে সচিবালয়ে প্রায় ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭২ বর্গফুট অফিস স্পেস থাকলেও অতিরিক্ত ৬ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুট জায়গার চাহিদা রয়েছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে এই চাহিদার প্রায় ৪২ শতাংশ পূরণ হবে।

তবে এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থাপত্যবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সচিবালয় এলাকায় ইতোমধ্যেই ভবনের চাপ বেশি হওয়ায় পার্কিং সংকট তীব্র হয়েছে। নতুন ভবনের বদলে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়ন জরুরি।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সচিবালয়ের চারপাশে গাড়ি পার্ক করতে হচ্ছে, যা অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া এ ধরনের অ্যাডহক প্রকল্প থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, সচিবালয়ের বেশ কয়েকটি ভবন পাকিস্তান আমলের এবং ৬০ বছরের বেশি পুরোনো। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও এগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, নতুন ভবনে প্রায় ২০০টি গাড়ির পার্কিং সুবিধা রাখা হবে। ভবিষ্যতে আরও দুটি ভবন নির্মাণ করা গেলে পুরোনো ভবনগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভবনে ১৪টি লিফট স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতি লিফটের গড় দাম ২ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ২ হাজার ৪০০ টনের কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সচিব শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পে প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে আধুনিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি স্থাপনে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একনেক সভায় হবে।

প্রস্তাবিত ভবনে আধুনিক নানা সুবিধা থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ২০টি কনফারেন্স রুম এবং চারতলা বেজমেন্ট পার্কিং।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের আদলে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ করা হবে।

উল্লেখ্য, সচিবালয়ে বর্তমানে মোট ১১টি ভবন রয়েছে। নতুন ভবনটি ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।