বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতাসহ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে শেষ হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফটকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা ও সংকট রয়েছে, সেগুলো দূর করার উপায় নিয়েও কথা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা তাদের মতামত দিয়েছেন।
“অনেক কিছুর সমাধান হয়েছে। আবার কিছু বিষয় এখনও ‘পেন্ডিং’ রয়েছে, যা আলোচনা করে সমাধান করা হবে।”
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতেই আজকের এই বৈঠক। বিনিয়োগে কোথায় বাধা রয়েছে—প্রধানমন্ত্রী তা সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুনেছেন।
“তিনি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করতে চান। কিছু সমস্যার সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।”
বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, রাংগস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী এবং এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত এবং বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বন্ধ কল-কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো কীভাবে পুনরায় চালু করা যায়—তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি যেসব কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলো চালুর পথ নিয়েও কথা হয়েছে।
“নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি পুরনো বন্ধ প্রকল্পগুলো চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এসবের সমাধান দিয়ে অনেক প্রকল্প পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
জ্বালানি সহায়তা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “মাল্টিলেটরাল সংস্থাগুলো থেকে বিভিন্ন সহায়তা আসছে। আমরা এসব সংস্থার সহযোগিতা পাচ্ছি।”
এদিকে, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শনিবার অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছান বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
পূর্বের পোস্ট :