রমজানের শেষ দশ দিনের মূল্যবৃদ্ধির পর কমেনি সোনালি মুরগির দাম বরং বেড়েছে; পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেড়েছে ইলিশ মাছের দামও।
শুক্রবার ঢাকার শান্তিনগর, মতিঝিল, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা ও কুড়িলের বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২৪০ টাকা থেকে কমে ২০০ টাকায় নামলেও এক সপ্তাহ আগে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগি এই সপ্তাহে এসে বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৪০০ টাকায়।
রমজানের শুরুতে ঢাকার বাজারে সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৮০-৩০০ টাকা, যা রমজানের শেষ সপ্তাহে এবং ঈদের সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪০-৩৬০ টাকায়। ঈদের পর ক্রেতাদের প্রত্যাশা ছিল আগের দরে নেমে আসবে মুরগির দাম। কিন্তু হয়েছে উল্টো।
মতিঝিল এজিবি কলোনি কাঁচাবাজারে মুরগি কিনতে এসে এক ক্রেতা টিপু সরকার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “ঈদের আগে আগে প্রতিবছরই মুরগির দাম বাড়ে; ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যে আবার আগের পর্যায়ে নেমে আসে দাম। এবার হয়েছে একেবারে উল্টো। গত সপ্তাহে ৩৬০ টাকা মুরগির দাম দেখে ভাবলাম এক সপ্তাহ পর কিনি। এখন বাজার এসে দেখি দাম বেড়ে কেজিপ্রতি সোনালি মুরগি হয়েছে ৪০০ টাকা।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী মুরগি পাচ্ছেন না তারা। এতে করে সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দাম বাড়ছে।
উত্তর বাড্ডা কাঁচাবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সেলিম আলি বলেন, “আগে গাজীপুর থেকে এক দিনের অর্ডারে দুই পিকাপ মুরগি আনতাম। এখন মুরগি অর্ডার দিয়ে দুই দিন বসে থাকা লাগে। পিকাপের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি আগে মুরগি বিক্রি করে টাকা দিতাম, এখন অগ্রিম টাকা দিয়ে মুরগি আনা লাগে। বাধ্য হয়ে দাম বাড়িয়েছে।”
বিক্রেতারা বলছেন সোনালি মুরগির দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। রামপুরা কাঁচাবাজের মুরগি বিক্রেতা সবুজ বলেন, “মানুষ ব্রয়লার মুরগি থেকে সোনালি মুরগি বেশি খায়। আগে একজন চারটা মুরগি কিনলে এখন কিনছে দুইটা করে। এক জোড়া কিনলে কিনছে একটা করে। দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের লাভ হচ্ছে না; বিক্রি কমেছে।”
সোনালি মুরগির পাশাপাশি দেশি মুরগির দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। রমজানের আগে বাজারে দেশি মুরগির কেজি ছিল ৫৫০-৬০০ টাকা। যা রমজানের প্রথম সপ্তাহে বেড়ে হয় ৬৫০-৭০০ টাকা। ঈদের সময় বাজারে দেশি মুরগির দাম ছিল ৭২০-৭৫০ টাকা। এই সপ্তাহে দাম বেড়ে বাজারে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-৮০০ টাকায়।
সাধারণত রোস্টের পিস কিংবা শিশুদের খাদ্য হিসাবে দেশি মুরগির আলাদা চাহিদা আছে বাজারে। দেশি মুরগির দাম বাড়াকে অযৌক্তিক বলছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা দিচ্ছেন সরবরাহ সংকটের সেই একই যুক্তি।
অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম আছে প্রায় আগের মতোই। বেশিরভাগ দোকানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজিতে। তবে খুচরা বাজার ও এলাকার কয়েকটি দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৮২০-৮৫০ টাকা কেজিতে।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বাজারে দাম বেড়েছে ইলিশের। ৫০০ গ্রাম ওজনের নিচে ইলিশের দাম ৮০০-১০০০ টাকা হলেও এই সপ্তাহে দাম বেড়ে হয়েছে ১৪০০-১৫০০ টাকা। এরচেয়ে বড় সাইজ ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৩০০ টাকায়।
এক কেজি বা এর ওপরে বড় সাইজের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৬০০-২৮০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, আগের মতো বাজারে মাছ আসছে না। এপ্রিলের শেষদিকে মাছের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও পহেলা বৈশাখের চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে আপাতত।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ডিমের দাম। ডজনে ১০ টাকা করে ডিমের দাম বেড়েছে ১০০-১১০ টাকা ডজনে বিক্রি হওয়া ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা ডজনপ্রতি।
দাম বেড়েছে খোলা ভোজ্যতেলের। সপ্তাহ ব্যবধানে লিটারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। বাড্ডা বাজারে গত সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল ছিল ১৯০ টাকা লিটার, যা এই সপ্তাহে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। এছাড়া দোকানে দোকানে রয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট।
সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় আগের দামেই। দাম বাড়েনি আলু-পেঁয়াজেরও। তবে সরবরাহ সংকট চলতে থাকলে আগামীতে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে শঙ্কা ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টদের।
পূর্বের পোস্ট :