সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের কিছু অঞ্চলে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসে ৫০ লাখ পরিবারকে দুই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে, যার জন্য প্রায় ১২,০৭২ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
বাস্তবায়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য সমন্বয় করা হলে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দেশের স্বল্প আয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। বিদ্যমান বিভিন্ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের সাথে সমন্বয় করে, নিষ্পত্তি না হওয়া দ্বৈত সুবিধাভোগের ঝুঁকি কমানো হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন
এর আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে:
১. গ্রামীণ সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার ও নিম্ন আয়ের মানুষ
২. ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক এবং দিনমজুর
৩. উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি বা পরিবার
৫. নারী-প্রধান পরিবার, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী
৬. ১৫–১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার
৭. প্রত্যাগত অভিবাসী বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার
৮. শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজমের মতো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সদস্য থাকা পরিবার
এছাড়াও, বাংলাদেশের টিসিবি কার্ডধারী যেসব স্বল্প আয়ের পরিবার এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির উপকারভোগীদের একীভূত করে এই কার্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
কারা পাবেন না
১. একই পরিবারের একাধিক সদস্য একইভাবে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না
২. ইতোমধ্যে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা ভোগকারী, কিন্তু সমন্বয়ে আনা না হলে তারা এই কার্ড পাবেন না
৩. সরকারি তালিকায় থাকা যারা দ্বৈত সুবিধাভোগী হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাদেরও এ কার্ড দেওয়া হবে না
জাচাই-বাছাই ও বাস্তবায়ন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নামের মাধ্যমে সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৮টি উপজেলায় পরীক্ষা চলবে; এরপর নীতিমালা অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও পে-রোল প্রস্তুতির মাধ্যমে দ্রুত অর্থ বিতরণ শুরু করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :