ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে চারদিনের ছুটি শেষে রোববার লেনদেন শুরু হওয়া দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইতিবাচক প্রভাব পড়ায় সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি গত পাঁচ মাসের তুলনায় লেনদেন হয়েছে সর্বোচ্চ।
সকালে প্রথম ত্রিশ মিনিটেই ডিএসইতে লেনদেন ছাড়ায় ২০০ কোটি টাকা। দুপুর ১২টার আগেই লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ১২৭৫ কোটি টাকা- যা গত পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ লেনদেন।
২০২৬ সালে এই প্রথম ১০০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলো। এর আগে ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরে প্রথম সপ্তাহ টানা হাজার টাকার ওপরে লেনদেন হলেও ৯ সেপ্টেম্বরের পর ফেব্রুয়ারিতে এসে আবারও লেনদেন ছাড়াল ১০০০ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা বলছেন, নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে বাজারের বেহাল দশার কারণে শেয়ার বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল বিনিয়োগকারীরা। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও দেশের স্থিতিশীল পরিবেশের পর বাজারে ফিরে এসেছে চাঙ্গাভাব।
ডিএসই বাজারে বিনিয়োগকারী আলতাফ হোসেন বলেন, "বাজারে লেনদেন ২০০ কোটি টাকাতেও নেমে গিয়েছিল। অথচ সেপ্টেম্বরেই এই বাজারে ১৪০০ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। নির্বাচনের পর দেশ স্বাভাবিক থাকলে পুঁজিবাজারে লেনদেন ১৫০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।"
আরেক বিনিয়োগকারী হামিদুর রহমান বলেন, "বাজার এভাবে চাঙ্গা থাকলে বিনিয়োগকারীরা ফিরে আসবেন। বাজারে বড় বিনিয়োগকারীরা ফিরে আসলে চাঙ্গাভাব আরও বাড়বে।"
দীর্ঘমেয়াদে বাজার আরও ভালোদিকে যাবে এমন প্রত্যাশা করে ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, "বাজার সংস্কারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভালো ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে- যার সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে। ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং, মার্চেন্ট ব্যাংক ও মার্জিন ঋণ নেয়া দেয়া সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো বাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখবে।"
বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লে ভালো আইপিও আসবে, বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং নতুন উদ্যোমে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা বাজার সংশ্লিষ্টদের।
"গত ১৮ মাসে বাজারে ভালো কোনো আইপিও না আসলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে বাজারে ভালো কোম্পানি আসতে শুরু করবে। আইপিও রীতিতে যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল সেগুলো দূর করা হয়েছে। অপেক্ষা ছিল একটি ভালো নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের। এখন ভালো আইপিও আসায় আর কোনো বড় বাধা নেই। একটি ভালো কোম্পানি পুরো পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে দিতে পারে," বলেন পুঁজিবাজারে সরকারি ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ।
পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের ইতিবাচক ধারণা থাকা ও বাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন কিছু না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএসইএসি। কমিশনের মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, গত কয়েক মাসে সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যা আদতে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বাজারে এর প্রভাব কী করবে সেটি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার একদিনের লেনদেনে ডিএসই'র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২০০ পয়েন্ট। সাড়ে তিন শতাংশের ওপরে সূচকের উত্থানে প্রধান সূচক বেড়ে হয়েছে ৫৬০০ পয়েন্ট।
বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ৩০ পয়েন্ট ও ব্লুচিপ সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ৮৬ পয়েন্ট। যথাক্রমে দুই সূচকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ শতাংশ ও ৪ শতাংশ করে।
দাম বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির; ৩৬৪ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২৬ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৪ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ব্লক মার্কেটে ৩৯ কোম্পানির ১২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে; ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি এবং প্রায় ৫ শতাংশ দাম কমে তলানিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
বড় উত্থান হয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই); সার্বিক সূচক সিএএসপিআউ বেড়েছে ৪৮৪ পয়েন্ট- যা ২০২৬ সালে একদিনে সূচকের সর্বোচ্চ উত্থান।
সিএসইতে ২৪ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে যা গত কার্যদিবসে ছিল ৯ কোটি টাকা। এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৫ কোটি টাকা।
দাম বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির ২২০ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৭ এবং অপরিবর্তিত আছে ১০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
প্রায় ১৫ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং প্রায় ১০ শতাংশ দাম হারিয়ে তলানিতে নর্দান ইসলামী ইনস্যুরেন্স পিএলসি।
পূর্বের পোস্ট :