বাংলাদেশের বাজারে আলু ও ডিমের দাম স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে মঙ্গলবার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন জানান, বাজারে আলু-ডিমের দাম আরও কমুক সেটা সরকার চায় না, দাম কমলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, রমজানের আগে এখন থেকেই বাজার অন্য সময়ের তুলনায় স্বাভাবিক আছে। গত রমজানের চেয়ে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্যের দাম কম থাকবে।

বাজারে কোনো পণ্য সংকট ও বিশৃঙ্খলা নেই উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “বাজারের শৃঙ্খলা এসেছে, বাজারে পণ্যের মূল্যমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক দিক প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বারবার বলে এসেছি এবং এখনো আবার বলছি যে আগামী রমজান গত রমজানের থেকেও ভালো হবে।”

বাজারে আলু-ডিমের দাম নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমি চাই না আলু-ডিমের দাম আরও কমুক। বাজারে ১২০ টাকা ডজনে ডিম বিক্রি হচ্ছে, ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে আলু। এরচেয়ে দাম কমলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডিমের ছোট ছোট খামারিদের বাঁচাতে হলে ফিডের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের দাম নির্ধারণ করতে হবে। সবদিক বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করতে হবে।”

মাংসের বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, সরকার ইচ্ছা করেই গরুর মাংসের দাম কমাতে মাংস আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়নি। মাংস আমদানি করলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। “ব্রাজিল থেকে চাইলেই আমরা অর্ধেক দামে মাংস আমদানি করতে পারতাম। কিন্তু খামারিদের কথা চিন্তা করে সে সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। ডিমের বাজারে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য থাকলেও মাংসের বাজারে এমন কিছু নেই।”

ডিমের বাজারে কখনই সরবরাহ সংকট ছিল না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “যখন ডিমের দাম ১৮০ টাকা ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৯ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। তার বিপরীতে আমদানি হয়েছে ১১ লাখ মুরগির ডিম— যা প্রতিদিন ৫ কোটি ডিমের চাহিদার ১০-১৫ মিনিট পূরণ করতে পারে।”

সামনে রমজান রেখে বন্দরে কোনো পণ্য সংকট নেই জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, আমদানির পরিমাণ এত বেশি যে জাহাজে করে পণ্য এনে বন্দরেই রাখতে হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রমাণ হয় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি নেই।

নিজের শেষ কর্মদিবসে উপদেষ্টা জানান, ব্যর্থতার নানা দিক থাকলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না। এতে করে বাজারে কোনো দৃশ্যমান সমস্যা নেই। ডিম, আলু, চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে নিয়মিত তদারকি ও অনুসন্ধান চলছে।