বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ভালো সপ্তাহ কাটিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা; বেড়েছে তিনটি সূচকও ও বাজারে শেয়ার বেচাকেনার সামগ্রিক লেনদেন।
ডিএসই সপ্তাহিক মার্কেটে পালস প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, এক সপ্তাহের লেনদেনে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৮০ পয়েন্ট। ৫১৫৪ পয়েন্ট নিয়ে লেনদেন শুরু করে সপ্তাহ শেষ হয়েছে ৫২৩৪ পয়েন্টে। এক বছরের ব্যবধানে সূচক বেড়েছে সাড়ে সাত শতাংশের বেশি।
বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ৩৭ পয়েন্ট এবং ব্লুচিপ সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ১৫ পয়েন্ট। এক বছরের ব্যবধানে এ দুই সূচকে যথাক্রমে সাত ও আট শতাংশ করে উত্থান হয়েছে। মাঝারি ও ক্ষুদ্র কোম্পানির এসএমই সূচক বেড়েছে সাড়ে তিন পয়েন্টের বেশি।
সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে সামগ্রিক লেনদেন; গড়ে প্রতিদিন ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৭৯ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি।
সপ্তাহ শেষে দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির; ২৩১ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৪১ কোম্পানি এবং অপরিবর্তিত আছে ১৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
বাজারে বিনিয়োগকারীদের মূল আকর্ষণ ছিল ব্যাংক খাতের শেয়ার নিয়ে। এ খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশের বেশি; যা খাতভিত্তিক বিবেচনায় সর্বোচ্চ। দাম বাড়তে থাকায় ব্যাংক খাতে শেয়ার বেচাকেনা ছিল রমরমা; মোট ক্রয়-বিক্রয় বেড়েছে ১২৩ শতাংশ।
ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির শেয়ার। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির লেনদেন ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যান্য ব্যাংকের মধ্যে লেনদেনে এগিয়ে আছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সিটি ব্যাংক পিএলসি।
ব্যাংক খাতের পরেই বড় উত্থান হয়েছে সিমেন্ট খাতে; দাম বেড়েছে ১০৯ শতাংশ ও লেনদেন বেড়েছে ৯৩ শতাংশ। সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির সাতটিরই দাম বেড়েছে।
এছাড়া বাজারভুক্ত ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ, যদিও লেনদেন কমেছে দেড় শতাংশের মতো। মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম ও লেনদেন বেড়েছে যথাক্রমে ৫৫ ও ৬৫ শতাংশ।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভালো করলেও সুবিধা করতে পারেনি বীমাখাত; সাধারণ বীমা খাতে শেয়ারের দাম কমেছে ৪২ শতাংশ এবং লেনদেন কমেছে ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে জীবন বীমা খাতে দাম কমেছে ১৭ শতাংশ ও লেনদেন কমেছে ২৭ শতাংশ।
ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার। প্রতিষ্ঠানটি একাই ব্লক মার্কেটে কয়েক ধাপে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
ডিএসইতে শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানির নয়টিই জেড ক্যাটাগরির ও তলানিতে থাকা দশ কোম্পানির নয়টি এ ক্যাটাগরির। অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে উত্থান হলেও দাম বেড়ে শীর্ষে আছে লভ্যাংশ না দেয়া খারাপ কোম্পানির শেয়ার এবং তলানিতে থাকা বেশিরভাগ কোম্পানিই নিয়মিত লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানি।
উত্থান হয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই); সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৬২ পয়েন্ট। দুই ব্লুচিপ সূচক সিএসই৩০ ও সিএসই৫০ বেড়েছে যথাক্রমে ২৫৩ পয়েন্ট ও ২৪ পয়েন্ট।
দাম বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির; ১৬০ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৮৭ এবং অপরিবর্তিত আছে ২২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফাইন ফুডস লিমিটেড, লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি ও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির শেয়ার।
পূর্বের পোস্ট :