ভরিতে ১৬২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাংলাদেশের বাজারে বৃহস্পতিবার এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২৮৬০০১ টাকা নির্ধারণ করেছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)

সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে, স্বর্ণের দাম বাড়ায় বাজুস, যা তৎক্ষনাৎ বাজারে কার্যকরের ঘোষণা দেয়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাজারে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালো স্বর্ণের দাম। এছাড়া গত কয়েক বছরে এটিই বাজুসের এককালীন সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি। 

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

২৮ জানুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। যা এতদিন ছিল দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।

এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ১৬ বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩ দফা।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার বাড়ানো রয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ৮১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা—যা দেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ দাম।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৮ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা।

২০২৬ এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৩ দফা।

এদিকে বিশ্ববাজারে লাগামহীন স্বর্ণের দাম; স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ৫৫০০ ডলার। এর আগে স্বর্ণের দাম কখোনই এতটা বাড়েনি। শুধু জানুয়ারি মাসেই স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার দুর্বল হওয়া, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের প্রতি নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে স্বর্ণের দাম এখন আকাশচুম্বী।