দেশের বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই। এ কারণে আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কমবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনাবিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির ১০ম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। আমদানি ও উৎপাদনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করেছি। এই বিশ্লেষণ থেকে আমরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে গত বছরের তুলনায় এ বছরের রমজানের বাজার আরও ভালো হবে। বাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন জানিয়ে বশিরউদ্দীন বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে, দাম বাড়বে না—বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম আরও কমতে পারে।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার নিত্যপণ্যের আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। “এ কারণে এ বছর রমজানে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে। যদি সরবরাহে কোনো সংকট না হয়, তাহলে বাজারে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই,” বলেন তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, বাজারে বর্তমানে কোনো গ্যাস সংকট নেই, নেই ডলার সংকটও। মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় বাজার এখন ভালো অবস্থানে আছে।
ভোজ্যতেলের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। “ভোজ্যতেলকে আমরা বৈচিত্র্যময় করেছি। দেশীয় উৎপাদনে প্রায় ৫ লাখ টন রাইস ব্র্যান তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে,” বলেন তিনি।
আগামী দিনে বাজারে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতেই পণ্যের মূল্য নির্ধারণ হবে জানিয়ে বশিরউদ্দীন বলেন, “প্রতিযোগিতা থাকলে বাজার নিজ থেকেই ভারসাম্যে আসবে। তখন ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন।”
রমজানে পণ্যমূল্য বেড়ে গেলে সরকারের করণীয় কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভবিষ্যতের ভয় দেখানোতে বিশ্বাস করি না। আমরা কাজ করছি। কাজের ফলাফল পাওয়া যাবে। অযথা আশঙ্কা নিয়ে আমরা ভাবছি না।”
সভায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং বেসরকারি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বের পোস্ট :