আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাস্তবায়িত পদ্মা সেতু, পদ্মা রেল সেতু, কর্ণফুলী টানেল ও পায়রা বন্দরের মতো ব্যয়বহুল মেগাপ্রকল্পগুলোর নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ায় সামগ্রিকভাবে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পদ্মা রেল সেতুর প্রাক্কলিত টোল আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অথচ সেখান থেকে এসেছে মাত্র ২৬ কোটি টাকা। বলা হয়েছিল, পদ্মা সেতু হলে জিডিপি ২ শতাংশ বাড়বে, কিন্তু বাস্তবে জিডিপি কমেছে। পায়রা বন্দরের ড্রাফট মাত্র ৪ মিটার—এটা বন্দর নাকি ঘাট, তা বোঝা যায় না। একই যুক্তি কর্ণফুলী টানেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।”
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় দশকে অযাচিত ও অপরিণামদর্শী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যেগুলো থেকে আলাদা করে কোনো আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়নি। এর ফলে বৈদেশিক ঋণের বোঝা বেড়েছে এবং মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ঘটেছে।
তিনি বলেন, “আপনারা নিজেরাই বিশ্লেষণ করে দেখুন—পদ্মা সেতুর বিনিময়ে আমরা কী পেয়েছি। এই অর্থ যদি সেচ ও সারে বিনিয়োগ করা যেত, তাহলে তা অনেক বেশি অর্থবহ হতো। এতে দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও বাড়ত।”
শেখ বশিরউদ্দীন জানান, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে দেড় দশকে দেশের মুদ্রার ৪৬ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশে রীতিমতো চুরির মহাযজ্ঞ চলেছে। ব্যাংকিং খাত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এই ঋণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চায়নি; চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ব্যয় বন্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার শত শত অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। “যেসব প্রকল্পে ৮০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে, সেগুলো বাধ্য হয়ে সরকার চালিয়ে নিচ্ছে। আর যেসব প্রকল্পে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয়বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু এই একটি প্রকল্পেই ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। মূলত মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণেই এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।”
আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য নতুন তিনটি ভবন নির্মাণে ৭৮৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তাই এই প্রকল্প নিয়ে কিছু বলতেও পারছি না,” বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়ের উৎস ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পূর্বের পোস্ট :