ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সারা সপ্তাহের লেনদেনে গড় লেনদেন বেড়েছে ৫১ শতাংশ, পাশাপাশি প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।
ডিএসই'র সাপ্তাহিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারা সপ্তাহের লেনদেন ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৪০ পয়েন্ট; সূচক অবস্থান করছে ৫০৯৯ পয়েন্টে।
বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ২৯ পয়েন্ট এবং ব্লুচিপ সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে একইসময়ে ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ, ডিএসইএস বেড়েছে ২ এবং ডিএস৩০ বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
সূচক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ; গড়ে প্রতিদিন ৫৭৫ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৮০ কোটি টাকা।
দাম বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির; পুরো সপ্তাহের লেনদেন শেষে ৩০৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৪১ এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
খাতভিত্তিক শেয়ারে করপোরেট বন্ড ও পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং বাদে সবকটি খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি এবং লেনদেন বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি।
ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে ১২০ শতাংশ ও লেনদেন বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এছাড়া বীমা কোম্পানির মধ্যে সাধারণ বীমা খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ ও লেনদেন বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। জীবন বীমা খাতে শেয়ারের দাম ৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং লেনদেন বেড়েছে ৫০ শতাংশ। মিউচুয়াল ফান্ডে ইউনিটের দাম বেড়েছে ৮৫ শতাংশ ও লেনদেন বেড়েছে ১০৪ শতাংশ।
ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি শেয়ার বিক্রি করেছে ফাইন ফুডস লিমিটেডে। কোম্পানিটি পাঁচ কার্যদিবসে ব্লক ট্রেডিং এর মাধ্যমে ১৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। ব্লক ট্রেডিং এ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড; ১৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। টেলিকম খাতের জিপি ১০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে ও সিটি ইনস্যুরেন্স পিএলসি বিক্রি করেছে ৭ কোটি টাকার শেয়ার।
ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেডের শেয়ার; কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বর্তমান মূল্য ৩৬৮.২০ টাকা। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ২২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস পিএলসি; কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বর্তমান মূল্য ২১৭.৩০ টাকা। স্কয়ারের ১৬ কোটি টাকার বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এছাড়া সিটি ব্যাংক পিএলসি, এশিয়াটিক ল্যাবরোটারিজ লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস পিএলসি, ফাইন ফুডস লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, লাভেলো আইসক্রিম ও খান ব্রাদার্স পিপি পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার আছে শীর্ষ লেনদেনের তালিকায়।
ডিএসইতে দরবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে আটটিই লভ্যাংশ না দেয়া খারাপ কোম্পানি হিসাবে বিবেচিত জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি এবং বাকি দুইটি ১০ শতাংশ বা এর বেশি লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত এ ক্যাটাগরির কোম্পানি। দরবৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচে থাকা কোম্পানিগুলোর প্রতিটি শেয়ারের দাম এক টাকার কম।
দরপতনে শীর্ষ দশে পাঁচ কোম্পানি এ ক্যাটাগরির, দুই কোম্পানি বি এবং তিন কোম্পানি জেড ক্যাটাগরির। এরমধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ রিটার্ন কমে তলানিতে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।
সিএসইতেও উত্থান
ডিএসই'র মতো উত্থান হয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই), সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩৩৯ পয়েন্ট। এছাড়া ব্লুচিপ সূচক সিএসই৩০ এবং সিএসই৫০ বেড়েছে যথাক্রমে ৩ ও ২ শতাংশ করে।
দাম বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির; ১৯৭ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ৭২ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই'র মতো সিএসইতেও লেনদেনের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন। তালিকার শীর্ষে থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো- ফাইন ফুডস, সিটি ইনস্যুরেন্স, আছিয়া সি ফুডস, বিবিএস ক্যাবলস।
সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের এবং সবচেয়ে বেশি দর হারিয়ে তলানিতে হামিদ ফেব্রিকস পিএলসি।
পূর্বের পোস্ট :