প্রায় দেড় বছরের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে দিল্লি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার তিনি দিল্লিতে পৌঁছাবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, সংশ্লিষ্টরা বলছেন—দুই দেশের স্থবির সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এটিকে।

যাঁদের সঙ্গে বৈঠক

দিল্লি সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদীপ সিংহ পুরির সঙ্গে। সময় মিললে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলর সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে।

সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আলোচনার বিষয়বস্তু

দুই দেশের মধ্যে চলমান বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকগুলোও আলোচনায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে—

গঙ্গা ও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক

সীমান্তে হত্যার ঘটনা

আঞ্চলিক সহযোগিতা

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। চুক্তি নবায়নের বিষয়টি এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

‘নতুন শুরুর’ বার্তা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক পুনরায় এগিয়ে নিতে চায় ঢাকা।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, এই সফর মূলত সংলাপের পথ খোলার সূচনা। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রত্যর্পণ ইস্যুও আলোচনায়

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ও আলোচনায় উঠতে পারে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপট

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সীমান্ত উত্তেজনা এবং বাণিজ্যসংক্রান্ত পদক্ষেপে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

ভারত শুরুতে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানায়। পরে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যায়।

পরবর্তী গন্তব্য মরিশাস

দিল্লি সফর শেষে ৯ এপ্রিল পোর্ট লুইসের উদ্দেশে রওনা হবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ১০ থেকে ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি।

কূটনৈতিক গুরুত্ব

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সফরে বড় কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরিই হবে প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।