সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে বিরোধী দলের নোটিস ঘিরে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রোববার ঈদের ছুটির পর সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন। তিনি কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে এই নোটিস দেন এবং বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়ায় একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
নোটিস উত্থাপনের পরই এর বৈধতা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, দিনের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১-এর আলোচনা শেষ করেই অন্য বিষয়ে যাওয়া উচিত।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং নিয়মিত কার্যক্রমের আগে এর সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিতে উঠলে বিরোধী সদস্যরা আপত্তি জানান। পরে তিনি বলেন, নোটিসটি যথাযথ বিধি অনুসারে দেওয়া হয়নি এবং এটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ৬৮ বিধির আওতায় আনা উচিত ছিল। তিনি আরও যুক্তি দেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি বিল আকারে সংসদে আনা প্রয়োজন, মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে নয়।
তার বক্তব্যের সময় বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদে সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি ডেপুটি স্পিকারের কাছে ‘প্রোটেকশন’ চান।
পরে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবটি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী এবং এ বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। তবে আলোচনার আগে সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহের জন্য কিছু সময় দরকার।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল কার্যপ্রণালী-বিধির ৬৫(২) অনুযায়ী রুলিং দেন যে, আগামী ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের কার্যসূচি শেষে এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।
রুলিং দেওয়ার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোটিস সংশোধনের বিষয়টি তুলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে বসতে বলেন এবং এক পর্যায়ে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় সংবিধান সংস্কারের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ার পর বর্তমান সংসদ সদস্যদেরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে বিরোধী দল দাবি করছে।
পূর্বের পোস্ট :