ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসছে। তবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় প্রথম দিনের বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন—তা নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনজ্ঞদের মধ্যে।

সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। একাধিকবার নির্বাচিত কয়েকজন সদস্যের নাম ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের মধ্য থেকে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, জয়নুল আবদিন ফারুক ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন ও কায়কোবাদ বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য।

১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরা শপথ নেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সেদিন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই ১২ মার্চ প্রথম বৈঠক বসছে।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতির আহ্বানে নির্ধারিত দিনে সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেদিনই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি সংসদে সভাপতিত্ব করতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম দিনের বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবিধানিক শূন্যতার অবসান হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মত

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় প্রথম অধিবেশন পরিচালনা নিয়ে আইনি প্রশ্নও উঠেছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কে অধিবেশন পরিচালনা করবেন—সংবিধানে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে এক ধরনের ‘আইনি শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে। তার মতে, সংসদ বসলে সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দিতে পারেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদেও এমন নজির ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য স্পিকার নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত সভাপতিত্ব করতে পারেন। জ্যেষ্ঠ হলে সমঝোতা সহজ হয়, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।

আরেক আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার নির্বাচন করে পরিস্থিতির সমাধান করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্ধারিত দিনে বসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে পারে।

প্রথম দিনের কার্যসূচি

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের সংসদগুলোর নজির অনুসারেই প্রথম দিনের কার্যসূচি সাজানো হচ্ছে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত একজন সদস্য অথবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্য সভাপতিত্ব করতে পারেন। এরপর স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হলে তিনি সভাপতির আসনে বসবেন। পরে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। ভাষণের মধ্য দিয়ে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তী কার্যদিবসে সেই ভাষণের ওপর আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম দিনের বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে।