পুলিশের আইনানুগ কাজে কেউ অবৈধভাবে বাধা দিতে পারবে না এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে পুলিশ সুপার (এসপি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে অনেককে এমন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে, যেখানে তাদের যাওয়ার কথা ছিল না। পদায়নের ক্ষেত্রে সার্ভিস রেকর্ড, দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে বিধিবহির্ভূতভাবে কাউকে প্রটোকল না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের করা কিছু মামলায় নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সুবিধাবাদী গোষ্ঠী অনেককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে। এসব মামলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুনরায় একটি কমিশন গঠন করে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান মন্ত্রী।

বিগত সরকারের সময়ে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পুনরায় যাচাই করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং লাইসেন্সধারীরা উপযুক্ত কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্রও জব্দ করা হবে।

পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জনগণের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়ায় অনভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে দালালচক্র ও কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে হয়রানির ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতি নিরসনে দলিল লেখকদের মতো পাসপোর্ট-সংশ্লিষ্ট সহায়তাকারীদের তালিকাভুক্ত করে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সেবা সহজ হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে। প্রথমে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। সফল হলে সারা দেশে চালু করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত উপপরিদর্শকদের (এসআই) পুনঃনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সারসংক্ষেপ আকারে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। কেন তা অনুমোদন হয়নি, তা জানা নেই। তদন্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।