পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান বুধবার ভোরে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। সফরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও তাঁর সঙ্গে থাকবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন, সংযুক্তিকরণ এবং কথিত ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব আরোপের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) বৃহস্পতিবার জেদ্দায় ওআইসির সাধারণ সচিবালয়ে ‘ওপেন-এন্ডেড এক্সিকিউটিভ কমিটি’র জরুরি বৈঠক আয়োজন করেছে। বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন।

বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশের সমকক্ষদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

ওআইসির এ বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো দখলদার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান সমন্বয় করা এবং করণীয় নির্ধারণ করা। সর্বশেষ যে পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে, তা হলো দখলকৃত পশ্চিম তীরে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ নামে জমি বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া শুরু করা। 

এ ধরনের পদক্ষেপকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত, রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে দুর্বল করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবকে দেশের একটি বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়া সৌদি আরব সফর করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উভয় পক্ষই মুসলিম ঐক্য জোরদারে তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেছে।