ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় কার্যালয় সোমবার সকালে আবারও সরগরম হয়ে ওঠে। দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কার্যালয় পরিদর্শনে আসবেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই নয়াপল্টনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পর থেকে টানা ছয় দিন নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল প্রায় ফাঁকা। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল কম, দাপ্তরিক কাজেও ছিল স্থবিরতা।
তবে সোমবার সকালেই দৃশ্যপট বদলে যায়। ভোর থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলে দলে কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।
সকাল প্রায় ১১টার দিকে ফখরুল নয়াপল্টন কার্যালয়ে পৌঁছান। প্রধান ফটকে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম টেনজিং এবং মিডিয়া সেলের সদস্য সায়রুল কবির খান।
পরে তিনি দ্বিতীয় তলায় নিজ কক্ষে যান। সেখানে দলীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহসভাপতি তপন কুমার মজুমদারসহ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নয়াপল্টন কার্যালয়ে এটাই ছিল ফখরুলের প্রথম সফর।
কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিন অফিসে উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কর্মচারীদের কাজও সীমিত ছিল। তবে সোমবার সকাল থেকেই কর্মব্যস্ততা বাড়ে। ব্রিফিং কক্ষ পরিষ্কার করে দিনের কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়।
বিএনপির দপ্তরের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সকাল থেকেই মহাসচিবের সফর ঘিরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তিনি আসায় সবার মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
অফিসের এক কর্মচারী আজাদ বলেন, কয়েক দিন কার্যালয় প্রায় ফাঁকা ছিল। আজ অনেকেই এসেছেন, স্লোগান দিচ্ছেন। অফিসে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে।
সফরকালে ফখরুল সহকারী দপ্তর সম্পাদক ও কর্মচারীদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি তাঁদের কাজের খোঁজখবর নেন এবং কোনো কাজ ফেলে না রাখার পরামর্শ দেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা না করার কথাও বলেন তিনি।
প্রায় ৪৫ মিনিট কার্যালয়ে অবস্থান শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ফখরুল সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হোন।
পূর্বের পোস্ট :