শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, মব চাপের মুখে পরীক্ষা বাতিল বা ‘অটো পাস’ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত আর নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে থেকে পাঠদান করতে হবে; অফিস সময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “অতীতে অনেক কিছু হয়েছে, যা হওয়া উচিত ছিল না। মবের চাপে পরীক্ষা বাতিল, অটো পাস—এসব কখনও কাম্য ছিল না।” তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে ‘পুরোনো গল্প’ টেনে না এনে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। “ভিশন ও মিশন সামনে রেখে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে তুলব,” বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র বিতরণ ও পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অফিস সময়ে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মিলন বলেন, “আপনারা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করবেন। শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে আন্দোলনে নামা যাবে না।”
তবে শিক্ষকদের দাবিদাওয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। “দাবি-দাওয়া যথাযথ পথে আসবে, আমরা সেগুলো সমাধান করব। রাস্তায় নেমে দাবি আদায়ের প্রয়োজন নেই,” বলেন তিনি।
শিক্ষকদের ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষকদের পাশে আছে, তবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। শিক্ষা খাতে দুর্নীতির বিষয়ে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ‘ভিত্তিমূলক মন্ত্রণালয়’; এখানে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির স্থান নেই।
ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ বা অনিরাপদ স্থাপনায় স্কুল পরিচালনার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “গ্যারেজে স্কুল চালানো যাবে না। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরা আমাদের সন্তান।”
পূর্বের পোস্ট :