দেশের ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা ধরে রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতির উদ্দেশে সোমবার রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাই—একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও আমার সহকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করেছি, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি—সেই বিচার দেশের জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসন অবসানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। তার তত্ত্বাবধানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বড় জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।
তিনি বলেন, ‘গত ১৮ মাসে গণতন্ত্র, কল্যাণমূলক শাসন, বাক-স্বাধীনতা, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা ধারা শুরু করেছি। আশা করি, জনগণ ও সকল রাজনৈতিক পক্ষ ঐক্যের মাধ্যমে এটিকে রক্ষা ও সমৃদ্ধ করবে।’
প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা। তিনি জুলাই সনদ, মানবাধিকার, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, বিচারব্যবস্থা সংস্কার এবং অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অমিত সম্ভাবনার দেশ। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সততার ওপর জোর দিয়ে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হবে।’
বিদায়ী ভাষণে তিনি দেশবাসীকে বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। আসুন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ি—যেখানে সম্ভাবনা সীমাহীন, স্বপ্নের কোনো সীমানা নেই।’
পূর্বের পোস্ট :