নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ‘বিশ্বমানের’ বাসভবনের পরিকল্পনা করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে প্রকল্পটি এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে থাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সংস্কার শেষে সেখানেই আপাতত উঠতে পারেন এক দিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, যমুনা প্রস্তুত হতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এর আগে তিনি যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানেই থাকবেন বলে জানা গেছে।

১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় ওঠেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, যমুনার সংস্কার এক মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, আপাতত মন্ত্রীদের বাসভবন ও দপ্তর প্রস্তুতের কাজ চলছে। সচিবালয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সেখানে ওঠেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান দায়িত্বকালে যমুনায় ছিলেন। ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদও একই ভবনে অবস্থান করেন।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনা শেরেবাংলা নগরের গণভবনকে সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নেন। ৫ আগস্ট তার সরকারের পতনের দিন সেখানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ভবনটি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলে অন্তর্বর্তী সরকার।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায় ছিলেন। পরে তাকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং তিনি গুলশানে ভাড়া বাসায় ওঠেন।

নতুন সরকার গঠনের আগেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি শেরেবাংলা নগরে দুটি স্থান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য বিবেচনা করে—সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা।

শেষ পর্যন্ত পুরাতন গণভবনের পেছনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকায় নতুন বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধান প্রকৌশলী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য নতুন প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যালোচনা করার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আন্তর্জাতিক মানের চেয়েও উন্নত মানের বাসভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি। বর্তমানে জুলাই জাদুঘরের পেছনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এলাকা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।