ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারের সংখ্যা কম থাকলেও দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় প্রতি কেন্দ্রে বাড়ছে ভিড়।
সরেজমিনে রাজধানীর ঢাকা-৫, ঢাকা-৬, ঢাকা-৮, ঢাকা-৯ এবং ঢাকা-১১ আসন ঘুরে দেখা যায়, সকালে নারী ও তরুণ ভোটারদের থেকে বয়স্ক পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি।
আরামবাগ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার তুহিন আহমেদ জানান, প্রায় দুই হাজার নারী ভোটারের মধ্যে এই কেন্দ্রে প্রথম তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ২৫০ এর মতো। কিন্তু বেলা বাড়তে শুরু করার পর নারী ভোটারদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ ঘুরে দেখা যায়, নারী ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
নিলুফা আক্তার মিলি নামে একজন ভোটার বলেন, “সকালে নাস্তা ও রান্নাবান্নার কাজ শেষ করে ভোট দিতে চলে এসেছি। এসে দেখছি ভোট দেয়ার জন্য নারীদের লম্বা লাইন।”
আরেক নারী ভোটার আফসানা জানান, জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে এসেছেন তিনি। লম্বা লাইনে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করতেও ভালো লাগছে তার।
তবে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের অভিযোগ সকাল ১১টার পর থেকে ভোট গ্রহণ চলছে ধীর গতিতে। তাদেরকে অনেকক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
টিএন্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা এক নারী ভোটার সামিয়া জানান, সকালে ভিড় না থাকলেও এখন ভিড় বাড়ছে। এতে করে ভোট প্রদান কার্যক্রম ধীরগতিতে হচ্ছে।
ঢাকা-৬ আসনের কবি নজরুল সরকারি কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নারী ভোটাররা সন্তুষ্ট। তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসছেন। এই কেন্দ্রে চার হাজারের বেশি ভোটার আছে। সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ভোট পড়ছে। বেলা যত গড়াচ্ছে ভোট দিতে ততবেশি মানুষ জড়ো হচ্ছে।
বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুলের প্রিজাইডিং অফিসার খসরু মিয়া জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এতটুকু শঙ্কা নেই তাদের। দুপুরের পর নারী ভোটার আরও বাড়তে পারে বলে আশাবাদী তারা।
দেশে মোট ভোটের অর্ধেকই নারী ভোটার। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি ২৮ লাখ ভোটার নারী। ভোট প্রদানের তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনকে অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক করে তুলেছে বলে মত নির্বাচনের দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের।
পূর্বের পোস্ট :