আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় রাজধানীর সড়ক ও সামাজিক মাধ্যমে ভোটের গান তুমুলভাবে ঘিরেছে। মিরপুরের ৬০ফিট সড়কের বারেক মোল্লার মোড়ে রিকশা ও পিকআপ ভ্যানে বাজছে ‘ভোট দিবেন কীসে ধানের শীষে’ ও ‘দাঁড়িপাল্লায় দেবো রে ভোট’ গান। এই ধরনের প্রচারণা গান রাজধানীর এলিফেন্ট রোড, ধানমন্ডি, হাতিরপুল, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচলিত।

রাজধানীর মগবাজার, বনানী ও নিকেতন রেকর্ডিং স্টুডিওগুলোতে প্রার্থীদের জন্য এক থেকে দুই দশকের পুরনো জনপ্রিয় গানের সুরে নতুন কথা বসিয়ে ২০–৩০টি করে গান তৈরি করা হয়েছে। খরচের পরিসর ধরা হয়েছে দুই হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বিএনপির থিম সং ‘ভোট দিবেন কীসে ধানের শীষে’তে আবহমান বাংলার সৌন্দর্য ও দলের প্রতিষ্ঠাতাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। এই গানটি আজগর হোসেন রাব্বির কথা ও সুরে গেয়েছেন আতিয়া আনিশা ও নিলয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও গানটির ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

জামায়াতে ইসলামী সরকারীভাবে গান তৈরি না করলেও, কর্মী-সমর্থকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার আহ্বান’ বিষয়ক গান তৈরি করে প্রচার করছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টিও (‘শাপলা কলি’ প্রতীকের মাধ্যমে) দুইটি নির্বাচনি গান প্রচার করছে, যা গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর জনগণের প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে।

অন্যান্য জনপ্রিয় গান যেমন ‘আম্মাজান’, ‘লাগে উড়াধূরা’, ‘মরার কোকিলে’, ‘বুক চিন চিন করছে’, ‘টিকাটুলীর মোড়ে একটা হল রয়েছে’ সুরে নির্বাচনভিত্তিক নতুন গান তৈরি করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও টিকটক-রিলস প্ল্যাটফর্মে এসব গান প্রচার হচ্ছে।

স্টুডিওর পরিচালকরা জানান, নির্বাচনি প্রচারণার জন্য গান তৈরি করা হয় বিভিন্ন প্যাকেজে—মাইকে বাজানো, ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওসহ। নতুন ট্র্যাক হলে ৪–৫ দিন সময় লাগে, তবে পুরনো গানের সুর ব্যবহার করলে এক ঘণ্টার মধ্যে গান তৈরি করা সম্ভব। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি গানও প্রচার হচ্ছে।

কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী, স্বত্বাধিকারীর অনুমতি ছাড়া গান তৈরি করা আইনি লঙ্ঘন। তবে কপিরাইট অফিস বলছে, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত তাদের কাছে আসেনি।

এভাবেই নির্বাচনের প্রার্থীদের পরিচিতি, প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে ভোটারদের কাছে গান ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে।