জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার এক বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে 'কাগুজে বাঘ' ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' বলেছেন।
বিকেলে জাতীয় শহিদ মিনারে 'জুলাই ঐক্য' কর্তৃক আয়োজিত ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’-এর সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "তারেক রহমানের চাপে সরকার কখনো জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপরে অস্ত্র চালায়, কখনো আবার নিজেদের ওপরে অস্ত্র চালায়। তারেক রহমান আসলে একটা কাগুজে বাঘ। তাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।"
তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, "ইউনূস স্যার, তারেক রহমানের ভয়ে লন্ডন গিয়ে বিএনপির সঙ্গে চুক্তি করে আসলেন। তাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তারেক রহমান একটা বেলুন, তাকে সুঁই দিয়ে খোচা দিলে ফেঁটে যাবে। আসল রয়েল বেঙ্গল টাইগার ইনকিলাব মঞ্চ।"
ইলেকশনের নামে নির্বাচন কমিশন সিলেকশনের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, "ইলেকশনে জেতানোর জন্য তারেক রহমানকে এত আয়োজন করে দেশে নিয়ে এসেছে সরকার। তারেক রহমান ও বিএনপি এত সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। এটা তো কোনো গণতান্ত্রিক ইলেকশন হলো না, এটা সিলেকশন হচ্ছে নির্বাচনের নামে।"
ছাত্রদল ও যুবদলকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' অ্যাখ্যা দিয়ে নাসীরুদ্দিন বলেন, "যারা ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে পারার কথা ছিল না। কিন্তু ছাত্রদল ও যুবদলের মতো সন্ত্রাসী সংগঠন নিয়ে কমিশনের সামনে মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপিদের নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়েছে।"
দুর্বৃত্তের হাতে নিহত ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির উদ্বৃতি দিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, "হাদি ভাই বলেছিলেন, সংসদে গেলে চাঁদাবাজদের ঘুম হারাম করে দিবেন। আজ হাদি ভাই নেই কিন্তু হাজার হাজার হাদি জন্ম নিয়েছে। চাঁদাবাজরা শুধু ঘুম না জেগে থাকলেও তাদের জীবন হারাম করে দেবো। মারা গেলে চাঁদাবাজদের কবরের ওপরে চাঁদাবাজ নাম দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেব।"
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্যই শুক্রবার শাহবাগ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনার সামনে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপরে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন নাসীরুদ্দীন।
অভিযোগ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, "অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভেতরেই একটি মহল নির্বাচন বানচাল করতে চাচ্ছে। যেভাবেই হোক ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হতে হবে।"
পূর্বের পোস্ট :