জুলাই অভ্যুত্থানে যারা সক্রিয় অংশ নিয়েছে, সেই প্রজন্মকে রক্ষার জন্য বৃহত্তর ঐক্যের তাগিদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর জোটে যোগ দিয়েছে বলে রোববার জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সন্ধ্যায় বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন নাহিদ।

“আমরা চেয়েছিলাম এককভাবে নির্বাচন করতে। ৩০০ আসনে একক নির্বাচনের প্রস্তুতিই নিচ্ছিলাম আমরা। সেভাবেই মনোনয়নের জন্য প্রার্থী আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মতো ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবিয়েছে এবং নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হেঁটেছি,” বলেন নাহিদ।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে নাহিদ জানান, নির্বাচন বানচালের পাশাপাশি পরাজিত শক্তির প্রধান উদ্দেশ্য জুলাই বিপ্লবের প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেওয়া। জুলাই প্রজন্মের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতেই এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

“দেশ সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতি বন্ধ করতে আমাদের বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন। সেই তাগিদের জায়গা থেকে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরা এই জোটে এসেছি,” বলেন নাহিদ।

এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় নিজ দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবিনের মতো কেন্দ্রীয় নেত্রীরা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সামান্তা শারমিন, মনিরা শারমিনের মতো নেত্রীরা প্রকাশ্যে এ জোটের বিরোধিতা করছেন।

এ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতের জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দল দলের নিয়মে চলবে।”

জামায়াতের মতাদর্শের সঙ্গে কীভাবে এনসিপির মতাদর্শ মেলে—এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, “আমরা আপাতত নির্বাচনের উদ্দেশ্যে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছি। নির্বাচনের পরে আমরা এক পথে হাঁটব কি না, সেটি তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। বর্তমান জোটের মূল লক্ষ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।”

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে নাহিদ জানান, “এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

বিকেলে জামায়াতসহ সমমনা জোটের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির এই জোটে যোগ দেওয়ার প্রথম ঘোষণা দেন। জামায়াতে এই জোটে এনসিপি ছাড়াও যোগ দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।