বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যোগ দিয়েছে বলে রোববার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শফিকুর জানান, এনসিপি এই জোটে যোগ দিয়েছে। এছাড়া নতুন দল হিসাবে যোগ দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত জোটে সদ্য যোগ দেয়া এলডিপির কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমেদসহ আট দলের শীর্ষ নেতারা থাকলেও এনসিপির পক্ষ থেকে কেউ ছিল না।
জামায়াত আমির জানান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আট দলের সঙ্গে আলোচনা করে এই জোটে সম্পৃক্ত হতে সম্মতি জানিয়েছেন।
"একটু আগেই এনসিপির সঙ্গে আমাদের বৈঠক শেষ হয়েছে। তারা এই সংবাদ সম্মেলনে আসার সময় ও সুযোগ করে উঠতে না পারলেও আমাদের জানিয়েছেন দলীয় পরিসরে আলোচনা করে রাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিবেন তারা।"
নির্বাচনে জোটবদ্ধ দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় শেষের দিকে জানিয়ে শফিকুর বলেন, "শিগগিরই আমরা এ নিয়ে আলোচনায় বসবো এবং শান্তিপূর্ণভাবে আসন সমঝোতায় বিষয়ে একমত হবো। এটি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।"
অন্যান্য অনেক দল জামায়াতের জোটে যোগ দিতে চেয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর জানান, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের জোটে আনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী এই জোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, "আমরা চাই সঠিক সময়ে সুষ্ঠুভাবে যেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের যে তারিখ নির্ধারণ হয়েছে কোনোভাবেই যেন তার হেরফের না হয়।"
নির্বাচনে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি উল্লেখ করে শফিকুর বলেন, "নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। আমরা আশা করবো সরকার ও কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।"
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)—এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে।
পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। জামায়াতসহ এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল। নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে।
পূর্বের পোস্ট :