বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমানের সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তন দেশের মানুষের মধ্যে সেই বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে।
শুক্রবার সকালে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ফখরুল।
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে এবং জনগণ তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তারেক রহমানের গৌরবময় প্রত্যাবর্তন সেই আশারই প্রতীক।”
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ বিপুল উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছে। “তিনি পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে দেশে ফিরেছেন,” বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও বটে।
“দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতার পর রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যেন নতুন বাতাস বইতে শুরু করেছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এবং সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে এখন তারেক রহমান। জনগণের কল্যাণে তারেক রহমান যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা তিনি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করবেন বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফখরুল।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে নানা কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সমুন্নত রেখেছেন।
“আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই গণতন্ত্র পূর্ণতা লাভ করবে,” বলেন তিনি।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে থাকা বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে।
“তারেক রহমানের উপস্থিতি রাজনীতিতে স্পষ্টতা এনেছে। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব,” তিনি বলেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। তাদের বহনকারী বিমানটি সকালেই বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক জনআগ্রহ ও আবেগের সৃষ্টি হয়। বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিপুল অংশগ্রহণে তাকে দেয়া হয় উচ্ছ্বসিত ও অভূতপূর্ব সংবর্ধনা, যা তার প্রত্যাবর্তনকে একটি ঐতিহাসিক ও বিজয়ী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পূর্বের পোস্ট :