বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে পারলে ধাপে ধাপে দেশের চার কোটি পরিবারের সব নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে; যার মাধ্যমে তারা এবং তাদের পরিবার স্বাবলম্বী হতে পারবে।
“একজন দরিদ্র পরিবারের নারী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী—সবার জন্য এই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। যারা মনে করেন তাঁদের ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দরকার, তারাই এর আওতাভুক্ত হতে পারবেন,” অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এসব কথা বলেন তারেক।
তারেক জানান, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কী কী কাজ করবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের সব নারীর জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা অন্যতম। শুরুতে ৫০ লাখ নারীকে এই কার্ড দেওয়া হবে।
“এই কার্ডের আওতায় একজন নারী প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি ভাতা পাবেন। এ ছাড়া তাঁর পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে এই কার্ডের মাধ্যমে। তিনি আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হয়ে উঠলে চাইলে কার্ডের আওতার বাইরে চলে আসতে পারবেন,” বলেন তারেক।
তারেক জানান, কার্ড নিয়ে যাতে কোনো দুর্নীতি না হয়, তাই সব নারীর জন্য এ কার্ড উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যেমন শিশুদের সুরক্ষা সেবা একজন প্রধানমন্ত্রী চাইলে নিতে পারেন, বাংলাদেশেও একজন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী চাইলে এই ফ্যামিলি কার্ডের সেবা নিতে পারবেন।
“অনেকে মনে করবেন, এত টাকা কোথা থেকে আসবে। অনেকে ভাবতে পারেন, এটা ল্যাভিশ একটি প্রকল্প। আমরা প্রতিটি পরিকল্পনার বাজেট ভেবে রেখেছি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায়ও ভেবে রেখেছি,” বলেন তারেক।
ফ্যামিলি কার্ড ছাড়াও কৃষকদের জন্য ইতোমধ্যে বিএনপি একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেছে, যেখানে দেশের সব কৃষককে কানেক্টেড করা হবে বলে জানান তারেক।
“এই অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক জানবেন কোন সময়ে কখন সার দিতে হবে, কবে বৃষ্টি হবে—সব সুবিধা কৃষক পাবেন এক অ্যাপে। এ ছাড়া আমরা কৃষি কার্ডেরও ব্যবস্থা করব, যার মাধ্যমে কৃষক স্বাবলম্বী হতে পারবেন,” বলেন তারেক।
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তারেক বলেন, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হবে। টেকনিক্যাল শিক্ষার ওপর আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের উদ্দেশে তারেক বলেন, “সবাইকে রাজনীতিতে আসতে হবে এমন না। আপনারা যারা রাজনীতিতে যোগ্য, অবশ্যই রাজনীতিতে আসবেন। কিন্তু দলের চেয়ে দেশ বড়—আপনারা যারা দেশের কাজে আসবেন, আমরা চাইব তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশকে গড়ে তুলতে।”
দেশের পুরো সিস্টেম ভেঙে পড়েছে উল্লেখ করে তারেক বলেন, “বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে দেশের প্রতিটি সিস্টেম নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মিলিটারি, ব্যুরোক্রেসি—সবখানে সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছে। এই সব আপনাদেরই আবার মেরামত করতে হবে।”
যেকোনো মূল্যে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে তারেক বলেন, “যেকোনো মূল্যে আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্র এলে জবাবদিহি আসবে। জবাবদিহি যাতে না থাকে, তাই প্রতিটি সিস্টেমে সমস্যা সৃষ্টি করেছে বিগত সরকার।”
আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
পূর্বের পোস্ট :