আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হবে—সে বিষয়ে আজ রোববার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটোর সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার আগে যেসব প্রস্তুতি দরকার, সেগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে নিয়মানুযায়ী আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে নির্বাচন কমিশন। সাধারণ রেওয়াজ অনুযায়ী এই সাক্ষাতের পরই তফসিল ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ইসির সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে নয়টি আলোচ্যসূচি রয়েছে। এর মধ্যে আছে তফসিল–পূর্ব ও তফসিল–উত্তর কার্যক্রম, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির সামগ্রিক অবস্থা এবং ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত।
এবার সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটকেন্দ্র ও সময় ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একজন ভোটারকে দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে বলে ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো এবং গোপন কক্ষ বাড়ানোর বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ইসি জানায়, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, আইনবিধি সংস্কার, অংশীজনদের সংলাপ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন—সব বড় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি নতুন দল নিবন্ধন পেয়েছে; আরও দুটি দল নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটা, মনোনয়নপত্র মুদ্রণ এবং ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ চলছে; এটি ভোটের আগ পর্যন্ত চলবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮২টি স্থানীয় সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটের সুযোগ দিতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্বাচন–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, নিজ এলাকা ছাড়া অন্য জেলায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং কারাবন্দী ভোটাররা তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবেন।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা আছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করায় কোথাও কোথাও ভোটকক্ষ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। রাজধানীর একটি কেন্দ্রে ‘মক ভোটিং’ করে ইসি দেখেছে, একটির জায়গায় দুটি গোপন কক্ষ করলে ভোটকেন্দ্র সংখ্যা না বাড়ালেও ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে করা সম্ভব।
মক ভোটিংয়ে দেখা গেছে, গণভোটের ব্যালট পড়তে ভোটারদের বাড়তি সময় লেগেছে। সব ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ বাড়ানোর মতো অবকাঠামো না থাকায় ইসিকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এসব পর্যালোচনা করেই আজ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
গতকাল নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসি পুরোপুরি প্রস্তুত।’
পূর্বের পোস্ট :