রমজান ও ঈদের ছুটির পর ঢাকার বাজারে কমতে শুরু করেছে ফলের দাম; কয়েকদিনের ব্যবধানে আমদানিকৃত ফলের দাম কমেছে কেজিতে ১০০ টাকার বেশি।

শুক্রবার রাজধানীর বাদামতলি পাইকারি ফল বাজার, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডা ও শান্তিনগরের খুচরা ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, আমদানিকৃত প্রায় প্রতিটি ফলের দাম কমেছে।

রমজান মাসে মাল্টা প্রতি কেজি ৩৫০-৩৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা কেজিতে। যদিও রমজানের আগে মাল্টার কেজি ছিল ২৬০-২৮০ টাকা।

জাতভেদে আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৪০ টাকায়, যা রমজানের সময়ে ছিল ৩৫০-৪০০ টাকা। রমজানের আগে জাতভেদে আপেলের দাম ছিল ২৮০-৩২০ টাকা।

এছাড়া কমলার দাম কমে হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৮০-৪০০ টাকা, যা রমজানে ছিল ৪২০-৪৫০ টাকা। রমজানের আগে এই একই কমলার দাম ছিল ৩৪০-৩৫০ টাকা কেজি।

দাম কমেছে অন্যান্য আমদানিকৃত ফলেরও; ডালিম বিক্রি হচ্ছে জাতভেদে ৪৫০-৫০০ টাকা। রমজান মাসে ডালিমের দাম ছিল ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি; রমজানের আগে ছিল ৪০০-৪৮০ টাকা কেজি।

নাশপাতি দাম কমেছে কেজিতে ১৫০ টাকার মতো; ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে নাশপাতি যা রমজানে ছিল ৫০০ টাকা কেজি।

বাজারে কালো আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজিতে, লাল আঙ্গুর ৪৫০ টাকা ও সবুজ আঙ্গুর ৪০০ টাকা কেজি। রমজানে প্রায় প্রতি জাতের আঙ্গুরের দাম ছিল ৫০০ টাকার ওপরে।

দাম কমেছে দেশীয় ফলেরও; পাকা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৭০-১২০ টাকা কেজিতে যা রমজানে ছিল ১৪০-১৮০ টাকা কেজি। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকা কেজিতে, আগে যার দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা।

বাজারে রমজান মাস থেকেই উঠতে শুরু করেছিল তরমুজ। যদিও তরমুজ বিক্রি হওয়ার কথা পিস হিসাবে কিন্তু বিক্রি হচ্ছে কেজি হিসাবে। শুরুতে কেজিপ্রতি তরমুজের দাম ছিল ১০০ টাকা যা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে।

ফল বিক্রেতারা বলছেন বাদামতলি পাইকারি বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে পারলে ফলের দাম আরও কমে আসবে।

বাড্ডার ফল বিক্রেতা রাশেদুল বলেন, “ফলের দাম পুরোটা নির্ভর করে বাদামতলি বাজারের সিন্ডিকেটের ওপরে। এই সিন্ডিকেট নিজেদের সুবিধামতো দাম নির্ধারণ করে। এখান থেকে খুচরা বাজারে ফল আসলে কেজিপ্রতি ফলের দাম বেড়ে যায় ৫০ টাকা করে।”

আরেক ফল বিক্রেতা সাব্বির বলেন, “বাদামতলিতে ফল বিক্রেতারা সব একজোট। এখানে আগে থেকেই দাম নির্ধারণ করা থাকে। আপনি কোনোদিন দামাদামি করে কিনতে পারবেন না। বেশিরভাগ বেচাকেনা হয় নির্ধারিত নিলামে। এতে করে বাজারে প্রতিযোগিতা বলে কিছু থাকে না।”

ক্রেতারা বলছেন, রাজধানীতে রমজানে ফলের বাজার ছিল উচ্চমূল্যে। এখন ফলের দাম কমলেও আসেনি আগের দামে। বাজার মনিটরিং করে, প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে ফলের বাজার স্থিতিশীল করার আহ্বান জানান ক্রেতারা।